পোস্টগুলি

ভালোবাসার ভাবাদর্শ

ছবি
★ মূল: পার্সি বিশি শেলি (LOVE'S PHILOSOPHY)     ঝরনা নদীতে মিশে যায়,  এবং নদী সমুদ্রে; বেহেশতের সুবাতাস চিরতরে মিশে রয় পবিত্র আবেগের সাথে; দুনিয়ার কিছুই একা নয়; সব এক খোদায়ী রায়ে যদি একে অপরে মিশে রয়- আমি কেন তোমাতে নই? কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, ১৫ জুলাই ২০২৬ দেখো, পর্বত ওই আসমানে চুমু খায়, এবং ঢেউগুলি কোলাকুলি করে; কোনো ফুল ভগ্নী মার্জনা না পায় যদি ভ্রাতাদের অবজ্ঞা করে; আর সূর্য কিরণ ধরণীর সাথে মাখামাখি করে  এবং চাঁদের জোছনা সাগরে চুমু খায়;- এই তামাম চুমুর মূল্য কোথায়, যদি তুমি আমাকে চুমু না খাও? ***অনুবাদক: মোঃ ফেরদৌস আলম (সাবেক শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

তুমি যা চাও...

ছবি
  ★মূল আরবি: নিজার কাব্বানি অনুবাদ: মোঃ ফেরদৌস আলম (রাচেল শিনের ইংরেজি অনুবাদ থেকে) কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, ২২ জুন, ২০২৬। অন্যসব নারীর মতো তুমি চাও, সুলাইমান নবীর ভান্ডার। অন্যসব নারীর মতো... সুগন্ধির জলাধার।  এবং হাতির দাঁতের চিরুনি। ঝাঁকে ঝাঁকে সেবিকা তরুণী।  তুমি চাও হে আমার প্রিয়া, তোমার নাম জপি আমি যেন টিয়া। ভোরে বলি, "আমি তোমাকে ভালোবাসি।" গোধূলীতে গাই, "আমি তোমাকে ভালোবাসি।" তোমার পায়ে যখনই শরাব ঢালি ও রমণী শাহেরজাদী,  সব নারীর মতো তুমি চাও  তুমি আমার কাছে চাও আকাশ ভরা তারা, এবং বেহেশত থেকে মান্নার থালা আর সুস্বাদু সালওয়া আরও চাও পুষ্পিত বাদামী জুতা! তুমি চাও... সাংহাইয়ের রেশমী কাপড়  আর ইস্পাহান থেকে- উৎকৃষ্ট চামড়া গাধার।  কিন্তু আমি তেমন পয়গম্বরদের কেউ নই যে তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলে পড়ে যায় হইচই  আর সাগর বিদীর্ণ হয়ে যায়।  যে তাঁর কঠিন প্রস্তর বিদীর্ণ করেন আলোয়! তুমি চাও সব নারী যেমন চায়,  পালকের পাখা এবং সুরমা  আর আতর। তুমি ক্রীতদাস চাও যে কিনা ভীষণ বোকা  তোমাকে ঘুমপাড়ানি ছড়া শোনাবে জোনাকি পোকা। তুমি চাও... একসাথে এবং একই স...

ঋতুরাজ

'বউ কথা কও' পাখি সরে গেছে কোন দূরে  আওয়াজ তবু আসে তার উড়ে। বড়ো করুণ ওই সুর ডেকে যায় একটানা হয়ে যায় ভোর। বউ কোনো কয় না কথা দেয় না জবাব।  এতো ভালোবাসি তারে তবু তার কীসের অভাব? 'বউ কথা কও' পাখি থাকে কোন উঁচুতে দেখে না কেউ তার দুঃখ কত প্রাণেতে! এতো ভালোবাসা তার এতো দুঃখ গাঁথা তবু মানিনী বউ তার কয় না কথা। কবির প্রাণে লাগে ডাহুকের ডাক বউ বলে প্রাণ তোর পুড়ে যাক।  মানুষ দুঃখের দোসর হয় না কভু  নিশুতি রাতে সহায় তবু নিদ্রাহীন প্রভু। কী বা অভিযোগ মোর, কী বা অনুরাগ ভুলে যাই, লাগে প্রাণে বউয়ের দেমাগ। বিরহী হৃদয় একলা জাগিয়া রয় বিরহ বোঝে না বউ; শুধু অশ্রু চোখে বয়! প্রাণ মোর উদাসীন সেই আগের মতো বউ রয় প্রিয়জনপ্রাণ অবিরত।  হয়তো আমি নই কেউ প্রিয় তার মনে  'বউ কথা কও' পাখি তবু ডাকে এক মনে। কোকিল ডাকে কোকিলারে কই প্রাণ কোকিলা ওগো, সাড়া দাও সই! বসন্ত, আহা অশান্ত প্রাণ  ওগো ঋতুরাজ, আর কতো এ করুণ গান! পাখি ডাকে প্রাণভরে সকরুণ সুরে  আমি অসহায় হারিয়ে যাই কোন দূরে! আমি পারি না গো এ বসন্তেও প্রিয়া ডাকিতে তোমারে প্রাণমন দিয়া! প্রকৃতির আহ্বান এই প্রাণের আকুতি  আমার হয়ে তোমা...

কাহকাসান

 ফুল ভালোবাসি আমি ঘ্রাণে মুগ্ধ হয়ে কারও কারও বা সৌন্দর্যে। গোলাপ কিংবা অন্য কারও প্রতি  পক্ষপাত ছিলো না আমার।  তুমি ভালোবেসে দিলে তাই ঘ্রাণ নিই ভালোবেসে।  কিন্তু গোলাপ শীঘ্র শুকায় গাছের মায়ায়। ফুল ছিঁড়তে আমার লাগে না ভালো  ফুলগাছই বরং লাগে ভালো।  আমি বরং স্বপ্ন দেখি জোছনা রাতে হাসনাহেনার আনন্দ। বড়ো করুণ ওই ঘ্রাণ  মনে হয় এ তারাভরা কোনো কাহকাসান!  তবু বড়ো ভয় হয় এই সুন্দরের আকর্ষণে হয় বাস্তুসংস্থান।  আসে পতঙ্গ, ব্যাঙ আর অবিশ্বস্ত সাপ! বড়ো ভয় হয় আমার তোমাকে নিয়ে  হে প্রিয়া মোর।  সাপের মতো সন্দেহ মনে আসে সৌন্দর্য ভালোবেসে।  এ বড়ো করুণ যন্ত্রণা!  ওথেলোর মতো চারিদিকে সন্দেহের আনাগোনা  আর বিষাক্ত ইন্ধন।  ওগো ডেসডিমোনা, তুমি ক্ষমা করো। তোমাকে আঘাত করার পূর্বে  আমি যেন সন্দেহের জাল ছিন্ন করতে পারি।  নিথর না হয় যেন প্রেম। ওগো প্রিয়া, তুমিও এড়িয়ে চলো সন্দেহের জাল। এ যে বিষ! আমাদের ভালোবাসা ঘৃণায় পাল্টে না যাক আস্বাদন করো না কোনো সন্দেহের আমিষ! এ যে গন্ধম। যার প্রমাণ  এনেছে বন্ধু রূপী শয়তান! ★(ফেরদৌস, ২৮-৪-২০২৪...

গুজব, গণপিটুনি ও বাস্তবতা

(২৩ জুলাই, ২০১৯ সালের ফেসবুক পোস্ট) কুরআন বলছে, ধ্বংস হোক, যারা শুধু অনুমানের ওপর ভিত্তি করে (কথা বলে)।' "হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, যদি কোনো দুষ্ট লোক তোমাদের কাছে কোনো তথ্য নিয়ে আসে, তবে তোমরা (সত্যতা) পরখ করে দেখবে, না জেনে তোমরা কোনো একটি সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে ফেললে অতঃপর নিজেদের কৃতকর্মের ব্যাপারে তোমাদেরই অনুতপ্ত হতে হলো।" "হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা বেশী বেশী অনুমান করা থেকে বেঁচে থাকো, কিছু কিছু অনুমান অপরাধ.." হাদিস বলছে, যাহা শুনে তাহাই বলিতে থাকা কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য ইহাই যথেষ্ট। "ঐ ব্যক্তি বীর নয়, যে লোকদের কে ভূ-লুণ্ঠিত করে, বরং বীর ঐ ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করিতে পারে।" *হে জন, হে গণ, সন্দেহ থেকে নির্বিচারে হত্যার আগে সত্যতা যাচাই করুন। বিচারহীনতার অভিযোগ থেকে জনতার আদালতও কি বিচারহীন হবে? আগে বিচার করুন পরে রায় দিন। একজন নির্দোষ ব্যক্তি শাস্তি পাওয়া, দোষী ব্যক্তি মুক্তি পাওয়ার থেকে বেশি ক্ষতিকর! চিলের পিছনে দৌড়াবার আগে কানে হাত দিন। একই ভুল বারবার করবেন না, হাদিস বলছে, কোন মুমিন একই গর্তে দুইবার দংশিত হয় না।...

একটি জাতীয়তাবাদী নাটিকা : বাংলা ও বালআমের গাধা

ছবি
[একজন কথক সংলাপ বহির্ভূত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বর্ণনা বয়ান করবেন।] সুপ্রিয় জাতীয়তাবাদী মানুষজন! আজ আমরা জাতীয়তাবাদের বিচার করবো। জাতীয়তাবাদ যুগ যুগ ধরে বিকশিত হয়েছে। জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে আমরা কী পেলাম, কী হারালাম! সমস্যা হলো-কী দিয়ে বিচার করবো! বিবেক? মানুষের বিবেক কি চূড়ান্ত বিচারে সক্ষম? বিবেক দিয়ে বিবেকের বিচার বড়োই কঠিন! আসুন, আমরা পক্ষে-বিপক্ষে আলাপ করি। পৌরাণিক কাহিনী ও ইতিহাসকে টেনে আনি বিচারের সূত্র হিসেবে। চলুন, জাগিয়ে তুলি সময়কে।  Photo credit: Balaam with angel and donkey, copperplate engraving by William Marshall Craig. Retrieved from: https://cdn.britannica.com/52/143352-050-F2336346/Balaam-angel-donkey-copperplate-engraving-William-Marshall.jpg?w=300 প্রথম অঙ্ক প্রথম দৃশ্য [বালাকের রাজদরবারে উৎকণ্ঠিত সবাই। যার অবস্থান যতো উপরে, তার চিন্তার পারদও ততো উপরে। পয়গম্বর ইউশার বাহিনী অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে আসছে। সেনাবাহিনী যুদ্ধের ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়েছে।] রাজা: (সকাল সকাল সভায় উত্তেজিত কণ্ঠে) আপনারা এভাবে বসে থাকবেন না। দ্রুত কোনো উপায় খুঁজে বের করুন। ইউশার বাহিনীকে যুদ...

মরমী সাধক হাসন রাজার জন্মবার্ষিকী

স্বনামধন্য লোকসঙ্গীত রচয়িতা ও সাধক হাসন রাজার জন্মবার্ষিকী আজ। আজও মানুষের কন্ঠে কন্ঠে হাসন রাজার গান হিসেবে ফিরে- ‘নেশা লাগিল রে’, ‘বাউলা কে বানাইলোরে’, ‘লোকে বলে হে বলে রে’, ‘মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দি’..অমূল্য এ গানগুলি। মরমী চারণ কবি হাসন রাজা ১৮৫৪ খৃসটাব্দ মোতাবেক ১২৬১ বঙ্গাব্দের  ৭ পৌষ বর্তমান সুনামগঞ্জ জেলার লক্ষণশ্রী গ্রামে এক বিত্তবান জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। হাসন রাজার পূর্ব পুরুষ দক্ষিণ রাঢ় দেশ থেকে হিন্দু কায়স্থ রাজা বিজয় সিংহ এবং তার অন্যান্য ভাইদের সঙ্গে শত্রুতা এবং বিবাদের সূত্রপাত হলে শ্রীহট্ট জেলায় এসে কুলাউড়া নামক স্থানে বসতি গড়ে তোলেন। সেখানে কিছুদিন থাকার পর চলে আসেন ‘রামপাশা’য় এবং দেওয়ান বাবু ইসলাম ধর্মে দীক্ষালাভ করে বাবু খাঁ নাম গ্রহন করে পরবর্তীকালে সেই নামেই পরিচিতি লাভ করেন। দেওয়ান খাঁ’র কয়েক পুরুষ পরের বংশধর দেওয়ান আলী রেজা চৌধুরী তার জমিদারী রামপাশা থেকে স্থানান্তরিত করে নিয়ে আসেন সুনামগঞ্জের কাছে লক্ষণশ্রীতে। এই লক্ষণশ্রীতেই জন্ম গ্রহন করেছিলেন দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরী ওরফে হাসন রাজা। হাসন রাজার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তেমন কিছু ছিল না কিন্তু মনের দিক...